রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, সকাল ৭:১৪

সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাকে পড়ে থাকা লাশ ৯ ঘন্টা পর উদ্ধার

মোঃ কামাল হোসেন,সিদ্ধিরগঞ্জ
ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক নামক স্থানে অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও হাইওয়ে পুলিশের ঠেলাঠেলির দীর্ঘ ৯ ঘন্টা পর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে৷ । লাশ কারা উদ্ধার করবে এ নিয়ে শুক্রবার(৪ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় পুলিশের মধ্যে ঠেলাঠেলি হয়। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ঠেলাঠেলির পর বেলা ২ টার দিকে হাইওয়ে পুলিশ শিমরাইল ক্যাম্পের এসআই আশরাফ উদ্দিন লাশটি উদ্ধার করেন।

অবৈধ মালামাল আটকের ক্ষেত্রে স্থান বা সীমানা নিয়ে পুলিশ এমন আচরণ না করলেও লাশ উদ্ধারের বেলায় কেন এমন হলো এনিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক নামক স্থানে মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তখন লাশ কে উদ্ধার করবে এনিয়ে পুলিশের মধ্যে শুরু হয় ঠেলাঠেলি। থানা পুলিশ বলছে খুন হয়ে থাকলে তারা লাশটি উদ্ধার করবে। সড়ক দুর্ঘটনা হলে হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার করবে। হাইওয়ে পুলিশ বলছে লাশে আঘাতের দাগ রয়েছে এটা সড়ক দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকান্ডে হতে পারে তাই থানা পুলিশ উদ্ধার করবে। তখন মৃত্যুর কারণ জানতে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে শুরু করেন পুলিশ। সিসি টিভির ফুটেজও তথ্য উপাত্ত্য দেখে নিশ্চিত হয় লোকটির মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। তখন থানা পুলিশ চলে যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেন বেলা ২ টার দিকে। তবে পুলিশের ঠেলাঠেলিতে দীর্ঘ ৯ ঘন্টা পর্যন্ত লাশটি ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা ভোর রাতের যেকোন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় লোকটির মৃত্যু হয় বলে তাদের ধারণা৷

হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ( ছুটিতে থাকা) টিআই মোঃ জুলহাস উদ্দিন বলেন‘লাশ দেখে সড়ক দুর্ঘটনা মনে হচ্ছিল না। লাশে আঘাতের দাগ রয়েছে। এটা হত্যাকান্ড হতে পারে ভেবে থানা পুলিশকে লাশটি উদ্ধার করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ লাশ উদ্ধারে গড়িমসি করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, লাশটি মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল। তাই হাইওয়ে পুলিশকে লাশটি উদ্ধার করতে বলা হয়। লাশে আঘাতের দাগ থাকায় তারা লাশ উদ্ধার করতে অনিহা প্রকাশ করে। পরে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী ও তথ্য উপাত্ত্য দেখে নিশ্চিত হয় এটি সড়ক দুর্ঘটনা।
শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে নারায়ণগঞ্জ পিবিআইর এসআই সুব্রত লাশের ফিঙ্গার সংগ্রহ করেছেন৷
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের এসআই মোঃ আশরাফ উদ্দিন বলেন, লাশ আমাদের হেফাজতে আছে। ময়নাতদন্তের জন্য এখনো পাঠানো হয়নি নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা করছি যদি নিহতের স্বজনদের পাওয়া যায় তবে তাদের পক্ষ থেকে মামলা হবে আর যদি লাশের স্বজনদের না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে আমরা হাইওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবো।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা